Vatbondhu News
প্রকাশ : Aug 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আয়কর রিটার্নে যেসব ভুল করলে বিপদে পড়তে পারেন

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অনেকেই বিষয়টিকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখেন। কিন্তু রিটার্নে দেওয়া তথ্যই করদাতার আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় এবং পরিশোধিত করের হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা অনেকেই জানেন না কিংবা গুরুত্ব দেন না। ফলে সামান্য ভুল তথ্য বা এক জায়গার সঙ্গে অন্য জায়গার তথ্যের অসঙ্গতি পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে সাবমিট করার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন নিয়ে এনবিআরের নতুন এফএআই-তে করদাতাদের বিভিন্ন সাধারণ ভুল ও সেগুলো এড়ানোর উপায় তুলে ধরা হয়েছে। এনবিআরের নির্দেশনায় বারবার বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে রেখে সতর্কতার সঙ্গে তথ্য ইনপুট দিতে হবে। কারণ ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে রিটার্ন সঠিকভাবে পূরণ নাও হতে পারে।


আয় ও করের তথ্য এক জায়গায় একরকম, অন্য জায়গায় ভিন্ন
ই-রিটার্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো আয় এবং কর পরিশোধের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা। এনবিআরের এফএকিউ-তে ব্যাংক টিডিএস-সংক্রান্ত একটি সমস্যার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ইনকাম সেকশনে এক ধরনের তথ্য এবং ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট অংশে অন্য তথ্য দিলে ‘ডিকলেয়ার্ড ব্যাংক টিডিএস ইজ নট ফাউন্ড’ বা ব্যাংক টিডিএস ঘোষিত আয়ের তুলনায় বেশি দেখানোর মতো সমস্যা হতে পারে। এনবিআরের পরামর্শ, দুই জায়গায় প্রকৃত তথ্য একইভাবে দিতে হবে। প্রয়োজনে ই-রিটার্ন লেজারের সিঙ্ক ফ্রম ইনকাম সুবিধা ব্যবহার করেও তথ্য মিলিয়ে নেওয়া যায়।

আরও পড়ুন

অন্যান্য বছরের থেকে এবারে আয়করের কী কী পার্থক্য, জেনে রাখুন
সম্পদের হিসাব বাদ দেওয়া যাবে না
অনেক করদাতা মনে করেন, আগের বছর রিটার্নে সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে পরের বছর আবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। এনবিআর জানিয়েছে, আগের বছরের সম্পদ-দায় অংশের তথ্য ই-রিটার্নের অটোফাইল অপশন ব্যবহার করে আনা যায়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ যোগ, বাদ বা সংশোধন করা যাবে। তবে আগের বছরে যেসব সম্পদ নগদায়ন বা হস্তান্তর হয়ে গেছে, সেগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পদ চলতি বছরের রিটার্নে দেখাতে হবে।



স্বর্ণসহ অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রেও বাজারমূল্য বসিয়ে দেওয়ার পরামর্শ নেই। এনবিআরের এফএকিউ (সাধারণ প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা) অনুযায়ী, আগের বছরে যে মূল্য দেখানো হয়েছিল সেটিই বহাল রাখতে হবে। আর নতুন করে কোনো সম্পদ কেনা হলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য দেখাতে হবে।

টিডিএস ও অগ্রিম করের তথ্য ভুল দেবেন না
চাকরি, ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বা অন্য কোনো উৎস থেকে কর কাটা হয়ে থাকলে সেই তথ্য রিটার্নে সঠিকভাবে দেখানো জরুরি। একইভাবে গাড়ির অগ্রিম কর বা অন্য কোনো অগ্রিম কর পরিশোধ করা থাকলেও সঠিক লেনদেন আইডি, চালান বা প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন

যে ৭ ধরনের আয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে
এনবিআর বলছে, ই-রিটার্ন লেজার-এর তথ্য পূরণের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে রেখে সতর্কতার সঙ্গে তথ্য দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে রিটার্ন অসত্য বা অসম্পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। ( ই-রিটার্ন লেজার হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন আয়কর সিস্টেমে করদাতার পরিশোধিত কর, উৎসে কর্তিত কর (TDS) এবং বিভিন্ন কর সমন্বয়ের হিসাব রাখার একটি ডিজিটাল পাতা বা খতিয়ান)




একাধিক চাকরি থাকলে একটি আয় হিসেবে দেখাবেন না
একই আয়বর্ষে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে অনেকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেন বা মোট আয় ভুলভাবে বসান। এনবিআরের ২০২৬ সালের এফএকিউ অনুযায়ী, কর্মসংস্থান আয় অংশের অ্যাড এমপ্লয়মেন্ট অপশন ব্যবহার করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের চাকরি ও সংশ্লিষ্ট আয় আলাদাভাবে যোগ করা যায়। একইভাবে চিকিৎসক বা আইনজীবীদের মতো পেশাজীবীদের আয়ও সঠিক খাতে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। এনবিআর তাদের পেশাগত আয় বিজনেস/প্রফেশনাল ইনকাম-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অংশে দেখানোর নির্দেশনা দিয়েছে।

রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি তথ্য একবার যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। ই-রিটার্নের রিটার্ন ভিউ অপশনে পুরো রিটার্ন দেখা যায়। সেখানে ভুল তথ্য প্রবেশ করানো হয়েছে কি না পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

আয়কর রিটার্নে তথ্য গোপন করলে শাস্তি কী জানেন?
এনবিআর জানিয়েছে, চাইলে করদাতা ধাপে ধাপে তথ্য পূরণ করে সেভ করে রাখতে পারেন। পরে সময় নিয়ে সব তথ্য পরীক্ষা করে রিটার্ন সাবমিট করা যায়।



ভুল হয়ে গেলে কী করবেন?
রিটার্ন সাবমিট করার পর ভুল ধরা পড়লেও বিষয়টি একেবারে শেষ হয়ে যায় না। এনবিআরের ২০২৬ সালের ই-রিটার্ন এফএকিউ অনুযায়ী, অনলাইনে দাখিল করা রিটার্নে ভুল থাকলে দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে সংশোধিত রিটার্ন একবারই দাখিল করা যাবে।

তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায়, টিডিএস, অগ্রিম কর ও অন্যান্য তথ্য প্রমাণপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। তবে এনবিআরের বর্তমান এফএকিউ অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তবে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রয়েছে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেক্সিমকোর ২৯ হাজার শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে

1

কর্মবিরতি প্রত্যাহার, কাজে ফিরেছেন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচা

2

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

3

ভূরাজনীতিতে সরকারের শত দিন ও কদম আলী: মোঃ আলীমুজ্জামান

4

বিএসইসির পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চায় ডিবিএ

5

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

6

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

7

রফতানিতে বড় ধাক্কা

8

দুর্নীতির জালে বিএসইসির ৪ বিভাগ

9

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

10

ভ্যাটবন্ধু নিউজ

11

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

12

আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের

13

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

14

অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব

15

জঁ-জাক রুসোর উক্তি ও চলমান পরিস্থিতি: মোঃ আলীমুজ্জামান

16

ফেব্রুয়ারি থেকে আমদানি-রপ্তানির সব সনদ অনলাইনে জমা বাধ্যতামূ

17

কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা

18

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

19

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

20